Searching my own sky

Searching my own sky

Saturday, October 4, 2014

 প্রতিবার না লেখার একটাই বাহানা থাকে, "ব্যাস্ততা"। সেটা  পুরোটা মিথ্যেও নয় যদিও । ছেলেবেলার মত আজ কাল আর দুর্গাপুজোর সেই আনন্দ বা উত্তেজনার চেয়ে দুই সপ্তাহ ছুটি পাবার আনন্দটাই আলাদা। আজ কাল আনন্দের পরিভাষাই পালটে গেছে। আমার স্কুলের বাচ্চাদের দেখি একটা ছোট কাগজের টুকরো যাকে আমরা বলি, "Reward Card",বাচ্চারা কোন ভাল কাজ করলে দিয়ে থাকি,সেটাই পেয়ে তারা খুশি। আমরা বড়রা অতো অল্পেতে খুশি হইনা। সেই ব্যাপারে আমাদের কলেবর  দামোদর শেঠের চেয়েও বড় ।

একটা জিনিষ কেন জানিনা ছোটবেলা থেকেই দুর্গাপুজোর সন্ধেবেলায় মনটা এত খারাপ কেন হয়ে যায় ! ঘোরাফেরা , খাওয়া দাওয়া,সাজগোজ ,ফেসবুক এ ছবি দেওয়া ,আড্ডা ,গল্প -সবই তো হয়। তাও মন কেন যেন খারাপ থাকে। এই রহস্যের কিনারা পাওয়া বড়ই কঠিন ।

পঞ্চমীর দিন ভাবলাম সকালবেলাতেই বেরিয়ে পরি। রাতের ভিড়ে প্রতিমাদর্শন। উফ! সে না বলাই ভাল। কারণ কি শুধু সেটাই ছিল ? জানিনা! ঘুরতে ঘুরতে পৌঁছে গেলাম পুরনো পাড়াতে ।আমার শৈশব সেখানেই কেটেছে । মহানন্দা নদীর ধারে একটা ভাল পুজো হত। যেতাম বাবা মায়ের সাথে। আজকাল আর অতো দূরে যাওয়া হয়না। হঠাৎ  চোখ পরে যায় একটা জায়গায়, ফুচকার দোকান ! তখন আমি ক্লাস থ্রীতে পড়ি ,বাবা মার সাথে সপ্তমির দিন ঠাকুর দেখতে বেরিয়েছি , ওই ফুচকার দোকান দেখে বায়না করলাম,
"বাবাই ওটা খাব!"
বাবাই জিজ্ঞেস করলেন, "ওটা পারবি খেতে?"
আমি বললাম, "হ্যাঁ পারব!"
সেটি খাবার পদ্ধতি আমার মা আমায় শেখাচ্ছিলেন , হঠাৎ দেখি্ একটা  বছর তিনের ছেলে ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে আছে । ছেঁড়া জামাকাপড় , শুকনো মুখ। সে ভিক্ষে করছিলোনা শুধুই দেখছিল । বাবা তাকে টাকা দিতে চাইলেও সে নিতে চায়নি। চুপ করে চলে গেল। ভাল লাগলনা ওই ফুচকা খেতে ।

আমি তখন ছোট। গরিবি হাটাও , দেশ বাঁচাও - এসব জানতাম না। কিন্তু "পার্থক্য " টা  স্পষ্ট চোখে পরেছিল ।
আজ আসা করি ও ভাল আছে।অন্ততপক্ষে খাবা্র স্টলে ওই ভাবে তাকিয়ে থাকেনা।

তুই যেখানেই থাক,, তোকে জানাই, শুভ বিজয়া।

Tuesday, April 22, 2014

মনে রাখব!


 মনে পরবে তোমায়   বার বার,
তোমার সাথে কাটানো প্রতিটি মুহূর্তের, প্রতিটি অভিজ্ঞতার;
পরবে তোমার শেখানো, কবিতা লেখা,
প্রতি সপ্তাহ শেষে  লেখা গল্পগুলো শোনাবার। 
তুমি থাকবে আমার গাওয়া প্রতিটি গানে,
তুমি থাকবে  আমার নাচের ছন্দে ও  তালে,
থাকবে আমার প্রাণে ।
থাকবে তুমি চিরদিন আমার লেখায়,আমার আঁকা ছবিতে ,
সময় পেলে এক উড়োচিঠি  পাঠিয়ে দেব নিভৃতে ।
শব্দগুলো   যায় হারিয়ে,এই গল্পের শেষে ,
আমার আওয়াজ পৌঁছোয় না,
তোমার সেই দূর দেশে।




Saturday, November 23, 2013

ভাবনা

 গল্প  লিখবো ভেবেছিলাম , কেন যেন  শব্দ খুঁজে পাই না ,
কবিতাই বা লিখব  কি ? আর ছন্দগুলো  মেলাতে পারিনা।
মনে পরে যায়  কিছু কথা, সে  বেশ কয়েক বছর আগের,
শব্দ, ছন্দ সব কিছু  ভালই  মনে আসত ;
কোন  কাজ কম্মও ছিলনা  তখন,
মনে  ছিল  অজস্র  এলোমেলো  ভাবনা।
সপ্তাহের  শেষে  শুধু অজুহাত  খোঁজা ,
একটু  যদি কথা বলতে পারি;
বলতাম,"দেখতো  কেমন লিখেছি?"
সব খুঁতগুলো  বেশ  ধরিয়েদিতে,
ধরিয়েদিতে  ভুলগুলো ।
কত  নতুন  নতুন  কথা  শেখাতে,
ধরে ফেলতে  কখন  দুঃখ  পাচ্ছি ,
না দেখেই।
কত  রাগ, দুঃখ , অভিমান,কতকিছু ,
তার হিসেব  রাখিনি।
সারা রাত জেগে  কত  চোখের  জল ফেলেছি  রাখিনি তারও হিসেব।
তর্কাতর্কি , ঝগড়াঝাঁটি,মনোমালিন্য , খুনসুটি -
সবের শেষে  জিজ্ঞেস  করা,
"শরীর  ভাল আছে  তো?"  "মন  ভাল আছে তো ?"
বসন্ত উৎসবে সেই আমার আঁকা  পলাশ ফুল,
সেই  রঙগুলো ,
সব  মনে  পরে।
আমি  আজও  হাসি  আগের মত,
তবে  হাসির  আড়ালের  দুঃখটা  কেও  কি  আর  ধরতে  পারে?
আজ  কোথায়  যেন  চলে গেছ ! শত চেষ্টা  সত্ত্বেও  পাইনি  তোমায়  খুঁজে;
হয়তো  মনেরই  ভুল ছিল , আর ছিল  পাগলামি;
তবু কেন  জানিনা, আজও  দিনের  শেষে  একবার  মনে মনে  জিজ্ঞেস  করি,
"শরীর  ভাল  আছে তো ?" "মন ভাল  আছে ?"




Tuesday, March 26, 2013

নতুন বসন্ত!


মৃদু মিষ্টি বাতাস, সূর্যালোকে আলোকিত নীল আকাশ; এক অদ্ভুত  অনুভুতি; সময়ের খেয়াল নাই,
                      বেলা বয়ে যায়, সব কাজ ফেলে আমি বসে আঙিনায়;
অলস মন , তাতে এলোমেলো ভাবনা যত , দুঃখ, যন্ত্রণা , অভিযোগ জমে আছে কত !
                             হাওয়ায় গালদুটি আলতো ভাবে ছুঁয়ে যায়,
                        পরশখানি বুঝিয়ে দেয় ,বসন্ত এসেছে আঙিনায়।
              আমার পথ হয়েছে রঙিন , তাতে ছুটে  চলেছি  একা উন্মাদের ন্যায়।
যতবার চেয়েছি নিজেকে রাঙাতে বসন্তের রঙে , দেখেছি রঙগুলো  কেমন যেন উধাও  হয়ে যায় !
                   আজ পলাশের বন দিচ্ছে হাতছানি , কোকিল গাইছে গান,
                                "হয়েছে সব যন্ত্রণা , মলিনতার অন্ত,
                   আজ কোন বাধা নেই, জীবনে এসেছে  নতুন বসন্ত !"



Sunday, April 29, 2012

মূল্যবান কিছু মুহূর্ত !

বহু দিন ধরে নিজের  আসল  পরিচয় খোঁজার চেষ্টা করছিলাম। অবশেষে সেটা পেলাম ! ওদের ভালবাসা, ওদের বিশ্বাসের মধ্যেই পেলাম নিজের আসল পরিচয় । অনেক ধন্যবাদ!  
http://www.youtube.com/watch?v=gJLJjR_Lpu8

Saturday, February 18, 2012

বদলে যাচ্ছে সব!

        দূর থেকে দেখে সব জিনিসকে অন্য রকম লাগে, কাছ থেকে দেখলে তা দেখায় ঠিক অন্যরকম। একটা স্কুল, সেখানে ছোট বাচ্চারা- দৌড়ে বেড়াচ্ছে খেলে বেড়াচ্ছে , মনে হয় বড় নিস্পাপ। কাছ থেকে দেখলে সত্যিই কিছু ব্যাপারে ভীষণ ভয় হয় । এরা ঠিক কতটাই বা নিস্পাপ !

         দেখে ভীষণ অবাক হই, যখন এরা কারো দুর্বলতায় হাসে। একটি নার্সারি বি এর ছেলে যে মানসিক বিকলাঙ্গ তার ওপর তারা হাসে, তাকে নিয়ে মজা করে ঠিক তারই বয়েসি বাচ্চারা । আমার ক্লাসে কেও অঙ্ক না পারলে বা কোন প্রশ্নের উত্তর দিতে না পারলে বাকিরা তাকে- "Looser" বলে ডাকে।

          কিছু দিন আগে আমারই ক্লাসের একটা ছেলে স্কুলের এক আয়ার সাথে ভীষণ খারাপ ব্যবহার করে। তা নতুন নয়। স্কুল ছুটির পরে এক জনকে দেখি সে watch man কে বলছে- "তুমি আমাকে শেখাবার কে?" তাকে মানা করলে সে বলে, "watchman আমাকে বলার কে?"

           উঁচু ক্লাসের ছেলে মেয়েদের বকলে তাদের হাব ভাব দেখে ঠিক মনে হয়  তারা বলে,- "We don't give a damn!" তারা সকলেই ভীষণ "smart"!তবে সেটা "merit" - এর দিক দিয়ে না অন্য কিছু, সে ব্যাপারে প্রশ্ন থেকে যায়।
           আমরা বড়রা -সে শিক্ষক - শিক্ষিকা বা তাদের বাবা মাই  হোক না কেন, মনে হয় আমরা  ওদের যত না  চিনি , ওরা আমাদের psychology বা আমাদের দুর্বলতাগুলোকে খুব ভাল করে বোঝে ।
          নতুন   generation  বা প্রজন্মকে দেখে মাঝে মাঝে ভীষণ ভয় হয় । বড়দের সম্মান না দেওয়া,  কারো দুর্বলতাকে নিয়ে মজা করা, অন্যের কষ্টে নিজের খুশি খুঁজে পাওয়া- সত্যিই  বদলে যাচ্ছে সব!
          

Wednesday, February 8, 2012

ছোটবেলা

                        আকাশের ওই রামধনু রং যেন আমায় ডাকে ,
                       হারিয়ে যাই কোন যেন এক অচেনা পথের বাঁকে ।

Sunday, January 22, 2012

ত্রুটিপূর্ণ চরিত্র !

              
               যদি নিজেকে কল্পনা করি কোন গল্পের চরিত্র হিসেবে,
                    মনে হয় চরিত্রটা বড়ই ত্রুটিপূর্ণ , অসম্পূর্ণ ;
                    কত যে খুঁত রয়েছে এতে সে আর বলার নয়।
                               বিভ্রান্ত, বিদ্ধস্ত একটা চরিত্র;
                    প্রতি মুহূর্তে  এক অজানা ভয় তাকে গ্রাস করে;
                  তবে ভয়টা ঠিক কিসের বুঝে উঠতে পারেনা।
                রোজ কেউনা কেউ এসে অনেক উপদেশ দিয়ে যায়।
               চরিত্রটার খুঁতগুলোকে ঠিক কি ভাবে শোধরানো যায় -
                                 তা নিয়ে জল্পনার অন্ত নাই।
               সে যতই চেষ্টা করুক, পাল্টাবেনা কোনদিন এই চিত্র;
                         
          কারণ এ এক ভীষণ ত্রুটিপূর্ণ চরিত্র ।


Monday, January 16, 2012

                    সেই ভবিষ্যৎ জগৎ  যেন দেয় হাতছানি ,
              উড়ে যেতে চায় সে দিকে আমার ছোট্ট মনখানি ।
         আমি বলি , "একটু দাঁড়াও ! করো একটুখানি অপেক্ষা ;                      

Sunday, January 8, 2012

হাসতে ভালবাসি

যে দিন তাকে দেখেছিলাম প্রথম কলেজের ক্যাম্পাসে,
পরনে ছিল কালো একটা টি শার্ট , নীল রঙের জিন্স ,
সবার চেয়ে ছিল সে আলাদা!
ভিড়ে আলাদা করে চেনা যেত তাকে।
আমি সে দিন কিছু ভেবেছিলাম।



একদিন দেখলাম আমার সামনে দিয়ে চলে গেল,
অন্য কারো সাথে , তার হাত ধরে।
আমি সে দিন  হেসেছিলাম- নিজের ওপর।

যেদিন  বিশ্বের বাজারে নিজের আসল দামটা জানতে পারি,
সেদিনও কেমন যেন  বেপরোয়া ছিলাম।

যে দিন ওরা আমায় ডেকে স্পষ্ট করে বুঝিয়ে দিল
ওরা মালিক আর আমি কৃতদাস ;
সে দিন ও হাসতে হাসতেই সেই ঘর থেকে বেরিয়ে এসেছিলাম।


যে দিন দুঃস্বপ্ন ঘুমটাকে ভাঙিয়ে দিল,
সে দিন দৌড়তে দৌড়োতে বাইরে গিয়ে তাকালাম ওই উদীয়মান সূর্যটার দিকে।
সমস্ত অন্ধকারকে দুর করে চারিদিক আলোয় ভরিয়ে দিয়েছে।
সে দিন আর সেই মিথ্যে হাসি হাসিনি । সেদিন হাসিটাতে কিছুটা হলেও
সত্যতা ছিল।
বুঝলাম সেই দিন, জীবন যতই খেলা খেলুক , কাঁদাক , 
ওলট পালট করে দিক  সব কিছু ;
সে সত্যি হোক বা মিথ্যে হাসি,
আমি হাসতে সত্যিই ভীষণ ভালবাসি ।


Monday, December 26, 2011

ইচ্ছে


                                             ছোট্ট পাখিটার ইচ্ছে ছিল -সে একদিন  উড়তে শিখবে ।
                                                    নীল আকাশে উড়তে উড়তে চলে যাবে বহু দুরে,
                                                           -স্বাধীনতার এক অদ্ভুত অনুভুতি।
                                  কিন্তু তার ভাল লাগত না যখন তার মা তাকে বাইরে যেতে মানা করত। 
                                       "বাইরে যেতে নেই! বাইরের জগতটা খুব খারাপ।"
                                                সে ভাবত, "তাতে কি? তাই বলে কি উড়বো না?"
                                                        একদিন মাকে না বলে সে গেল চলে;
                                              ডানা মেলে উড়তে শুরু করল খোলা আকাশে।
                                 আজ সে স্বাধীন ; কেও তাকে থামাতে পারবেনা,
                                                           কেও মানা করার নেই।
                          হঠাৎ একটা বিশাল শকুন তেড়ে আসে তার দিকে। সে পালাতে থাকে প্রান বাঁচিয়ে।
                                     "মা" "মা" বলে চিৎকার করে কিন্তু কেও শুনতে পায়না তার আওয়াজ ।
                                                          শকুনটা তার পেছন আর ছাড়ে না।
                                         অনেক কষ্টে পিছু ছাড়িয়ে একটা গাছের ডালে এসে
                                                                    পাতার আড়ালে লুকোয়।
                                                       একটা তির এসে বিধল তার বুক। 
                                          একটা শিকারি শিকারের সন্ধানে ঘুরে বেড়াচ্ছিল বনে।
                                     রক্তাক্ত শরীরটা মাটিতে এসে পরে; ছটফট করতে থাকে সে।
                        উড়ে পালাবার চেষ্টা করে, কিন্তু শিকারিটা এসে তার সেই ডানাদুটো  কেটে ফেলে।
                                        প্রাণটা বেরোবার আগে তার মনে পরে মায়ের কথা।
                                শিকারিটা তার মৃতদেহ নিয়ে মনের আনন্দে বাড়ি ফিরে যায় ।






Wednesday, December 7, 2011

ভোজ উৎসব

                                খাওয়ার জন্য লাগেনা কোন যুক্তি ,
                             উদ্দেশ্য একটাই , সে হল 'রসনা তৃপ্তি ।"
                         সে হকনা দেশি , বিলিতি বা মোগলাই রান্না ,
                        জিভে যে আসে জল, "আরও চাই" "আরও চাই "
                                              শুধুই বায়না।
                       চাইনিজ , কাটলেট , আইসক্রিম বা বিরিয়ানি ,
                            শুক্তো বা পস্তো , রসগোল্লা বা চাটনি ।
হোকনা তা পিজ্জা বা  সে হোকনা পাস্তা, এর থেকে বাঁচার নেই যে কোন রাস্তা।
                         পোলাও , পায়েস , মাছ হোক বা সবজি,
                            খেয়ে যাও , খেয়ে যাও ,ডুবিয়ে কবজি।
                     সব কাজ পরে হবে আগে হবে "রসনা তৃপ্তি "
                             কারণ খাবার জন্য লাগেনা কোন যুক্তি! 

Sunday, December 4, 2011

গন্তব্য

                               নিজের গন্তব্য কি? কি জানি? সেই পথ কি কম খুঁজেছি ?
                                       বছরের পর বছর , মাসের পর মাস, দৌড়ে বেরিয়েছি,
                                                               তবু পাইনি খুঁজে ।
                                          শেষে ক্লান্ত হয়ে বলি , "আর নয়।অনেক হয়েছে।
                                      পথকে আর খুঁজবনা আমি, পথই আমাকে নেবে খুঁজে। "
                                               সেদিন থেকে বন্ধ করেদি সব পাগলামি।
                                          এক দিন দেখি সেই পথ ই যেন হাতছানি দিল।
                                                           ডাকল  নিজের কাছে ।
                                 কিন্তু আজও নিজের শেষ গন্তব্যস্থানটা কি জানতে বড় ইচ্ছে হয়।
                      কিন্তু সে এক কথা এখন ও বলি, "সেই আমাকে নেবে খুঁজে , আমি খুঁজবোনা তাকে।"




               
                                 

Wednesday, November 30, 2011

শুধু প্রশ্ন !

              সুখ দুঃখ মেশানো এ এক অদ্ভুত অনুভূতি,
         কোনটা সঠিক কোনটা বেঠিক , এ যেন এক ভ্রান্তি ;
                  আলো অন্ধকার মেশান চারিদিক ,
                       দিন না রাত্রি পাইনা বুঝে,
                     শুধু ছুটে বেড়াই দিক বিদিক;
           জানালার বাইরে তাকাই দেখি সেই পাখীগুলো,
           নীল আকাশের মুক্ত প্রাঙ্গণে  উড়ে বেড়ায় শুধু ,
                   তাদের বাধা নেই যে কোনও । 
          দিবারাত্রি নিজের সাথে করি "যুদ্ধ যুদ্ধ " খেলা!
কে হারল? কেই বা জিতল? শুধু এই প্রশ্ন করি নিজেকে সারা বেলা।
             প্রশ্ন করা যেন হয়ে উঠেছে একটা নেশা।
এক দিন সব প্রশ্নের পাব জবাব , শুধু এতটুকু আশা ।




Saturday, November 26, 2011

ভাল থাকবেন!

   আজ শনিবার বলে ভাবলাম grocery র জন্য দিনটা উপযুক্ত । আগামী সপ্তাহে এক দিন ও ছুটি নেই। তাই আজকের দিনটা ছাড়া উপায় নেই।
সেই departmental store  এ শুধু একটা জিনিস ই বিরক্তিকর ! সেই সেলস গার্ল । কখনো "এটা নাও" , কখনো  ওটা । "এটা ব্যাবহার করলে তোমাকে আরও সুন্দর লাগবে"। সেখানে ঢুকলেই সে এসে দাঁড়ায় আমার পাশে আর শুরু করে তার কথা । এই করে প্রচুর টাকা প্রায় সব মাসেই পকেট থেকে বেরিয়ে যায়। কিন্তু মুখের ওপর কারো "না" বলতে পারিনা। সেটিই সমস্যা ।
আজ সেখানে গিয়ে দেখলাম উনি ফোনে কথা বলতে ব্যাস্ত । ভাবলাম বাঁচা গেল ! আমার কেনা কাটা তাড়াতাড়ি সেরে পালাতে চাইছিলাম ।
ঠিক তখনই আমার পাশে এসে দাঁড়াল সে।  আমার পার্সটার দিকে তাকালাম। "আহারে গেল সব!"

সে বলল, "এর পরের মাস থেকে আর আমি থাকবনা। কে যে তখন তোমাকে সব জিনিসগুলো দেবে? আমি মুম্বাই যাচ্ছি । আমার ৬ বছরের ছেলের সাথে কথা বলছিলাম। খুব কান্নাকাটি করছে। আমার ক্যান্সার হেয়েছে। তার চিকিৎসার জন্য যাচ্ছি ।"
মনে হল চোখটা তার ভিজে গেল কথা বলতে বলতে । কোণায় চলে গেল। আজ কিছু বেচতে চাইল না। আমি পেছন ঘুরে বললাম, "একটা ভাল moisturizer দিন তো ।" আজ খুব খুশী হয় সে।

Counter এ bill payment করে জিনিসগুলো নেবার আগে সেই মহিলাটির কাছে গিয়ে বলি, " আপনি খুব তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে উঠবেন । খুব তাড়াতাড়ি আপনাকে আবার এখানে দেখতে চাই । আপনি না থাকলে আমাকে বেস্ট প্রোডাক্ট কে দেবে বলুন তো ?ভাল থাকবেন।"

Saturday, November 19, 2011

ফালতু

            স্কুল এর Happy fest এর জন্য তখন ভীষণ ব্যস্ত আমি। ক্লাস এ ওদের কিছু লিখতে দিয়ে বাইরে বেরিয়ে এসে নিজের বাকি কাজগুলো করতে থাকি। না হলে সে দিন ও বাড়ি ফিরতে রাত হত।
              কিছুক্ষণ পরে দেখি সে আমার পাশে এসে দাঁড়ায়। একেবারে চুপচাপ । "চুপচাপ" শব্দটা ঠিক তার ওপর  মানায়না। সারাক্ষণ ওর চিৎকার আর দুষ্টুমি , আর কিছু অযৌক্তিক বোকা বোকা কথা আর কাজ। সব জিনিসের একটা বোকা বোকা অবান্তর যুক্তি থাকে তার। জানিনা কোন জগতে থাকে। তবে তার একটা আলাদা জগৎ  তো রয়েইছে। সবাই ওকে নিয়ে মজা করে। সবচেয়ে বেশি বকা সেই খায়।  সায়ন্তিকে খুব ভালবাসে । কেও ওর সাথে সাধারণত  বন্ধুত্ত করতেও চায়না ।হয়তো তার কিছু অযৌক্তিক কথাবার্তা বা উটকো স্বভাবের জন্যে।
             আমি জিজ্ঞেস করি , "লেখা শেষ হয়েছে আয়েশা ?" সে তখনও চুপটি করে দাঁড়িয়ে আছে। তাকিয়ে দেখি ও  কাঁদছে । কি  হল? সে কেঁদেই চলেছে। আমাদের স্কুল হেড আমার কাজ দেখতে এসেছিলেন তাকে কাঁদতে দেখে উনি বলে উঠলেন , "Don't you know that tears make you weak? Now stop crying and go your class, young lady!" কিন্তু একটা বছর ৯ বা ১০ এর মেয়েকে সেই কথাগুলি যে খুব একটা প্রভাবিত করলনা সে টা স্পষ্ট বোঝা গেল। তার কান্না থামলোনা । একটা বাচ্চাকে কিছু বোঝাবার জন্য বাচ্চাই হতে হয় । তাই আমিও ওর ভাষাতেই জিজ্ঞেস করলাম। কিন্তু আজ কোনোভাবেই যেন তাকে থামানো যাচ্ছেনা।
              ক্লাস এ এসে  জিজ্ঞেস করি, "কি  হয়েছে? ও কাঁদছে কেন?" তখন কেও কিছু না বললেও পরে পুরো ব্যাপারটা স্পষ্ট হয়।


            সায়ন্তি হল মূল কারণ। এক সময় দুই জনে ভাল বন্ধু ছিল। Best Friends. আজ সায়ন্তি আর ওর দিকে ফিরেও তাকায়না। সে "সোমদত্তা" "পারমিতা" দের মত বন্ধুদের পেয়ে গেছে। আজ আয়েশা টিফিনে ওর পছন্দের লাঞ্চ নিয়ে আসলে সে খায়না। বলে , "ও সব আমি খাইনা! " আয়েশা ভীষণ ভাল ছবি আঁকে । competition এ ফাস্ট প্রাইজ জিতে সায়ন্তিকে দেখাতে আসলে সে কিছু না বলে চলে যায় । সে দিন সে কাঁদছিল কারণ , আবার সায়ন্তির সাথে কথা বলতে গেলে সোমদত্তা তাকে বলে , "আমরা তোর মত আলতু ফালতু লোকেদের সাথে মিশিনা।"
             দুই দিন আগে ক্লাস এ কপি চেক করছিলাম। আয়েশা এসে বলে,
"Will you scold me if I request you something?"

"No I won't! Tell me what do you want?"

"Will you be my best friend? I don't need them."

"Why not? sure!"

"Hey listen everyone! I don't need anyone because from today ma'am is my best friend!"

আমি ধমক দিয়ে সায়ন্তিকে বলতে পারি -"যাও কথা বল ওর সাথে।" শিক্ষিকা হিসেবে এতটুকু আদেশ করাই  যায় কিন্তু করিনি । এই ক্ষেত্রে জোর করা চলেনা । আমি সায়ন্তিকে বলি, " তোমার ওর সাথে এমনটি করা হয়তো উচিৎ নয় ।" সে বলে,"কিন্তু ম্যাম , ও একেবারে ফালতু । ফালতু কথা বলে , ফালতু কাজ করে ।"
শুনেছি ও বড়ই অভিমানী । ওর মা বলেছিলেন, " একদিন রাত্রে বাড়ি থেকে বেরিয়ে পার্ক বেঞ্চে শুয়ে ছিল। কারণ মনে হয়েছিল ওর কেও নেই।"  জানিনা কেন মনে হয় ও ভাবছে সবার থেকে ও পিছিয়ে যাচ্ছে। আজকাল একেবারে পাল্টে গেছে। এই নিষ্ঠুর পৃথিবীটা ই ওকে পাল্টে দিয়েছে। জানলার ধারে একা দাঁড়িয়ে থাকে। কিংবা আমার পাশে বসে আমার কাঁধের ওপর মাথা দিয়ে থাকে। আমাকে বলে, "তুমি কিন্তু সায়ন্তিকে কিছু বলবেনা। ওর দয়ার আমার প্রয়োজন নেই। ও এখনও জানেনা, ভবিষ্যতে প্রতিটি মুহূর্তে  হাজার হাজার "সোমদত্তা" ওর জন্য অপেক্ষা করছে।

ওর সাথে আরও একজনের মিল খুঁজে পাই। পুরোপুরি না হলেও বেশ অনেকটাই । এক অতি সাধারণ মেয়ের। যে বিদেশে থাকেনা। থাকে একটা ছোট্ট শহরে। যার কোন "বিদিশি" ডিগ্রী নেই। যার আয়েশার মতই কোন মূল্য নেই। এই নতুন বন্ধুর মধ্যে নিজেকে খুঁজে পেলাম। আমরা দুই জনেই ভীষণ
                                                                
                               "ফালতু!"






Friday, November 18, 2011

নবান্ন

                 প্রতিদিনের মত রোজকার ব্যাস্ততা । নতুন কিছুই নয়। এর মধ্যে কোথায় কি হচ্ছে তা জানার সময় নেই। ব্যাস্ততার  মধ্যেও  খবর শোনার একটু সময় বের করি আর কি-দেশ, বিদেশ , রাজ্য , রাজনীতি , খেলাধুলা ইত্যাদি । সবই একঘেয়ে। দিনের শেষে সেই ক্লান্ত শরীর কোন কিছু ভাবার অবকাশ রাখে না।

আজও ঠিক  একই । সব কিছু রুটিন অনুযায়ী চলছিল।  হঠাৎ  আমার এক ছাত্র বলে  উঠল - "ম্যাম, আজ জান কি? আজ নবান্ন!"  শুনে অবাক হলাম আর তার সাথে বেশ ভাল ও লাগল ; কারণ , এই প্রজন্মের ছোট শিশুরা এই শব্দটা জানে। তবে হ্যাঁ , তাদের সংখ্যাটা খুব কম ।

               "নবান্ন" শব্দটা আবার আমাকে অতীতের কথা ভাবতে বাধ্য করল। আজ থেকে অনেক বছর আগে, এই দিনে কি হত! আমি তখন আমার ছাত্রদের মতই ছোট । স্কুল ছুটির পরে গেটে বাবা বা মায়ের জন্য অপেক্ষা করতাম। বাবাই এই দিনে এসে বলতেন চল তাড়াতাড়ি ঠাম্মা বাড়ি যেতে হবে। ব্যাস কি আনন্দ! ঠাম্মার বাড়ি গিয়ে দেখি কত লোকজন !  বড় পুজো হত। আমার জ্যাঠতুত , কাকাত ভাই বোনরাও স্কুল কলেজ থেকে ফিরত। খুব মজা হত।ঠাম্মা আমাকে কত আদর করে খাওয়াতেন।

কত রকমের পদ। কি সুন্দর রান্না! তার যেন আলাদাই স্বাদ !আবার সন্ধেবেলায় বাড়ি ফিরে আসতাম। স্কুলে গল্প করতাম যা যা হয়েছে।
আজ আর "নবান্ন" নিয়ে ভাবার সময় নেই। কারও  মনেই নেই। মূল্যবৃদ্ধির বাজারে দু বেলা দু পেট খেতে পেলেই যথেষ্ট ! নতুন অন্ন না কি পুরনো - তাতে কি যায় আসে? আমি সকালে কি খেয়ে বেড়ই নিজেরই ্মনে  থাকেনা। সবাই ছুটে চলেছি । পুরনো জিনিসগুলোকে অনেক পেছনে ফেলে।
               

Sunday, November 13, 2011

ভগবান কি সত্যি আছে?

           উনি কি সত্যিই আছেন?
যাকে দিয়েছ , সব দিয়েছ , যাকে দাওনি, কিছুই দাওনি ,        
            করে রেখেছ নিঃস্ব !

Sunday, November 6, 2011

            সুখী হবার উপায়, চোখ বন্ধ করে রাখ;
দেখেও দেখনা কিছু, শুনেও শুননা , বোলো না  বা ভেবনা ;
          যত অন্যায় হোক না কেন, ফিরেও তাকিও না,
নিজের আত্মায় যতই পড়ুক চাপ,
যতই প্রশ্ন আসুক মনে , চুপটি করে থাকতে বল তোমার বিবেককে ;
নিরব দর্শকের ন্যায় শুধু দেখে যাও , আর মজা করো ,
সুখী হবার উপায় , চোখ বন্ধ করে রাখ।